
মোঃ মহসিন

কহিনুর বেগম
বিশেষ প্রতিনিধি
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মোঃ মহসিন, পিতা-মৃতঃ শাহদাৎ আলী, বাসা নং-ডি-১৪৭/১৩, কাজী নজরুল ইসলাম স্বরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর। তার বিবাহ শুরু হয় প্রথমে খালাতো বোন লিপিকে বিয়ে করে এবং লিপির ডিভি লটারীতে আমেরিকায় চলে যাওয়ার সুবাধে গ্রীনকার্ড অর্জন করেন। লিপির সাথে দীর্ঘদিন ঘরসংসারের ফলে তার ২ ছেলে ও নাতী নাতনী ঘরে আসে। লিপির সঙ্গে মহাসিনের চারিত্রিক ত্রুটির কারণে একপর্যায়ে তার ছাড়াছাড়ি হয় বলে জানাগেছে। দীর্ঘ ৭ বৎসর পর গ্রীনকার্ড নিয়ে বাংলাদেশে এসে শুরু হয় তার বিবাহ বানিজ্য। দ্বিতীয় স্ত্রী হিসাবে যোগ হয় সাম্মী আক্তার, ৩য় স্ত্রী হিসাবে নাসরিন, ৪র্থ স্ত্রী নাদিরা ইথার, ৫ম স্ত্রী শিমু, ৬ষ্ট স্ত্রী প্রভাষিকা যার নাম জানা যায়নি ও সর্বশেষ ৭ম স্ত্রী কহিনুর বেগম। কহিনুর বেগমকে ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে উত্তরার আজমপুরে কাজী অফিসে দশ লক্ষ টাকা দেন মোহরে বিয়ে করেন। এই সব অপকর্মে মহসিনের ফুফু হেনোরা বেগম ও ফুফাতো ভাই শামিম সহায়তা করেছেন বলে জানা যায়। হেনোরা বেগম মেয়েদের অভিবাবকদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে যেমন আপনার মেয়েকে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হবে।

ছবিতে মোঃ মহসিন, কহিনুর বেগম, নিচে মহসীনের গ্রীনকার্ড, নাদিরা ইথার
আমেরিকার গ্রীনকার্ড ধারী ছেলে যার গাজীপুরে ৬ তলা ভবন, উত্তরায় ফ্লাট, কক্সবাজারে দুইটি ফ্ল্যাট এবং সেন্টমাটিনে তার প্রচুর জমি রয়েছে। এ সব কথা বলে মেয়েদের অভিববাকদের বিয়ের কাজ সম্পন্ন করান। একইভাবে সকল তথ্য গোপন করে হেনরা বেগম কহিনুরের সাথে এই বিয়ে দিয়েছেন। এই ধরনের বিয়ের বিষয়ে হেনোরা বেগমের সহিত মোবাইল ফোনে ০১৭৬৭৫৩৭৯৯৫ কথা বলে এ ধরনের তথ্য ও বিয়ের কথা নিশ্চিত হওয়া গেছে। যে তিনি এ ধরনের বিয়ের কাজে সঙ্গে জড়িত। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রথম স্ত্রী লিপির সহিত ছাড়াছড়ির হয় বহু আগেই। আমেরিকার আইনে প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় স্ত্রী রাখা সম্ভব নয়, সে কারণে মহসিন প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ৭ বছর পর বাংলাদেশে ফিরে বিয়ের কথা গোপন করে গ্রীনকার্ড দেখিয়ে জয়পুরহাট জেলার সাম্মী আক্তারকে বিয়ে করেন এবং পরবর্তীতে আমেরিকায় নিয়ে যাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন ও নিয়ে যান। সেখানে তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে বলে জানাযায়। দ্বিতীয় স্ত্রী সাম্মী কাছে মহাসিন তার পূর্বের বিয়ের কথা গোপন রাখে যা পরবর্তীতে জানতে পারেন সাম্মী। এ নিয়ে শুরু হয় বাক-বিতান্ডা ও কথা কাটাকটি। এক পর্যায়ে সাম্মীকে মারধর করে মহাসীন তখন সাম্মী আমেরিকার পুলিশকে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে এ ঘটনায় মহাসীনের সাজা হয়। তারপর এখানেই দ্বিতীয় বিবাহের সমাপ্তি ঘটে। মহাসিন পুনরায় বাংলাদেশে এসে কথিত ফুফু হেনোরা বেগমের মাধ্যমে ঢাকার মেয়ে নাসরিনকে তৃতীয় স্ত্রী হিসাবে গ্রহন করেন। এ বিয়ের কিছুদিন পর তথ্য গোপন করে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার নাদিরা ইথারকে ২০০৯ সালে চতুর্থ স্ত্রী হিসাবে ঘর সংসার শুরু করেন। নাদিয়া ইথারের সাথে তার মোবাইল ০১৭৬৬-৮৯৮৯৬৪ নাদিরার সাথে কথা বললে তিনি মহাসিনকে এক্স হাসমেন্ড বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে তার পরিচয় গোপন রাখার শর্তে প্রথমে তথ্য প্রদান করতে চান কিন্তু হটাৎই মত পরিবর্তন করে বিষয়টি এড়িয়ে যান। এর মধ্যে পূর্বের সকল বিয়ে ও মহাসিনের চরিত্রগত ত্রুটি কথা লোক মুখে জানতে পারেন নাদিরা ইথার। এ সব প্রকাশ পেলে সংসারে শুরু হয় অশান্তি। এ বিয়েও কিছুদিনের মধ্যে নাদিরা ইথারের সাথেও ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। পঞ্চম স্ত্রী হিসাবে টাঙ্গাইল জেলার শিমু আর্বিভাব হয়। তার কিছুদিন পরে তথ্য গোপন করে তাকে তালাক না দিয়ে গাজীপুরে আজিমউদ্দিন কলেজের এক প্রভাষিকাকে গোপনে বিয়ে করেন বলে জানা যায়। এভাবেই সিরিজ বিয়ে জালিয়ে জান বলে অভিযোগ উঠেছে মহাসিনের বিরুদ্ধে। এখানেই শেষ নয় বাংলাদেশের বিবাহ রেজিষ্ট্রি আইন ও মুসলিম শরিয়া আইনের তোয়াক্কা না করে এ সকল বিয়ে সংঘঠিত করেছেন বলে আইনবিদরা জানিয়েছেন। কহিনুর বেগমকে ২০১৫ সালে ১৭ই নভেম্বর উত্তরার আজমপুর কাজী অফিসে দশ লক্ষ টাকা দেনমোহরানায় বিবাহ সম্পন্ন করেন মহাসিন। কহিনুর বেগম, পিতা-এস.এ মোহাম্মদ সার্জেন্ট অবসর প্রাপ্ত সেনাবাহিনী ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে এই কহিনুর বেগম তিনি গাজীপুরের স্থানীয় বাসিন্দা। বিয়ের পর মহসিন তাকে নিয়ে জয়দেবপুর নিজ বাসা ৬ষ্ঠ তলা ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস শুরু করেন। সপ্তম স্ত্রী হিসাবে হেনোরা বেগমের মাধ্যমে এই ঘটনার স্বীকার হন কহিনুর বেগম। সমস্ত বিয়ের তথ্য গোপন করে ঐ হেনোরা বেগম এই বিয়ে ঘটিয়েছেন। বিয়ের কিছু দিন পর হতেই মহসিন সম্পর্কে নানারুপ প্রকার বিয়ের কথাবার্তা জানতে পারেন কহিনুর বেগম। একপর্যায়ে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে চতুর্থ তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী নাদিরা ইথারের সহিত বিবাহ বহিরভূত সম্পর্কের কথাবার্তা রেকর্ডের অকাঠ্য প্রমান হাতে পেলে শুরু হয় মহসিনের সহিত কহিনুর বেগমের সেই বাক-বিতন্ডা সেখান থেকে সম্পর্কের শুরু হয় অবনতি।
ইতিপূর্বে বিয়ের পর-পরই স্বভাব সুলভ ভাবে কহিনুরকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে ২৫ হাজার টাকা বেতনে ইউনিসেফ এর চাকুরী ছাড়তে বাধ্য করে এবং পূর্বে ব্রাকে চাকুরী করার সমুদয় বেনিফিটের টাকা, পিতা-মাতা ও ভাই বোনদের নিকট থেকে প্রাপ্ত সম্পত্তি বিক্রিয়ের টাকা ছলে বলে কৌশলে হাতিয়ে নেয় মহাসিন। যা ধার স্বরুপ গ্রহন করা হয়েছে বলে এর বিপরীতে ষ্ট্যাডার্ন্ড চাটার্ড ব্যাংকে দুইটি চেক প্রদান করেন। এই চেক দুইটি যথাক্রমে ৬৮১০৪৫৯, তারিখ-১০-০৯-২০১৭, টাকার পরিমান ৯৫ লক্ষ অন্য চেকটি নং-৬৮১০৪৬০, তারিখ-১৬-০৮-২০১৭ টাকার পরিমান ৩৩ লক্ষ কহিনুর বেগমকে যথাক্রমে একটি ৯৫ লক্ষ টাকা ও অন্যটি ৩৩ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করেন। এছাড়াও তার নামে উত্তরার একটি ফ্ল্যাট, জয়দেবপুরে ছয় তলা ভবনের ৩টি ফ্ল্যাট প্রদান করা সহ তাকেও আমেরিকা নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। পরবর্তীতে কহিনুর বেগম ভয়ানক বিপদ আঁচ করতে পেরে কালক্ষেপন না করে তার বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন। এরই অংশ হিসাবে ১৮ই আগষ্ট ২০১৭ জয়দেবপুর থানায় মহসিনকে প্রধান আসামী করে ও ফুফাতো ভাই বেলায়েত হোসেন ও তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার এনিকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন (২০০৩) সংশোধন আইন ১১(গ) ৩০ ধারা অনুযায়ী মামলা করেন। অন্যদিকে কহিনুর বেগমকে প্রদান করা চেক দুইটি ব্রাক ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিয়ে ব্যাংক কর্তৃক ডিজঅনার করিয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র জুজিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রে, জয়দেবপুর আদালতে এন,আই.এক্ট এ দুইটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। যাহার সি আর মামলা নং যথাক্রমে ১৮০০/১৭ এবং ১৯০৭। এসব তথ্য জানার পর মহাসিন ক্ষিপ্ত হইয়া কহিনুর বেগমকে নানা হুমকি ধামকি ও বাড়ি থেকে বিতারিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্তি হয়। এরই অংশহিসাবে গাজীপুরের সালনা বাজারের কাজী অফিস থেকে একটি ভূয়া কাবিন বানিয়ে ঐ এলাকারই কানাইয়া কাজী অফিস থেকে তালাক নামা তৈরী করে উকিল নোটিশের মাধ্যমে কহিনুর বেগমকে তালাক দেওয়ার নোটিশ পাঠান। সরজমিন অনুসন্ধানে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ঐ কাজি অফিসে ঐ দিন তারিখে ঐ ধরনের বিয়ের কোন অস্থিত্ব নাই। সেখান কার কাজী সাহেব মন্তব্য করেন যে, মহসিন একজন বহু বিবাহের দক্ষ্য কারিগর ও জালজালিতারি সাথে জড়িত। এ বিষয়ে মহসিনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য বাড়ির ভাড়াটিয়া ও তার ফুফাতো ভাই বেলায়েত ও ফুফাতো বোন বেলায়েতের স্ত্রী আফরোজা আক্তার এনিকে মোবাইল ফোনে ০১৯৪১০০০৭৭৯ যোগাযোগ করলে মহসিন সম্পর্কে ও তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন নাম্বার চাইলে তারা বিয়টি কৌশলে এড়িয়ে জান। অথচ নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে ঐ ছয় তলা বাড়ির নিজ তলায় অবস্থান করে মহসিনের পক্ষে সকল কার্যক্রম স্বদম্ভে চালিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে স্ত্রী কহিনুর বেগমকে ভয়ভীতি দেখানো অব্যহত রেখেছেন বলে অভিযোগ আছে। সেকারণেই মহাসিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানিয়েছে মহাসিন বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় নিজেকে আড়াল করে নেপথ্যে সকল কলকাঠি গাজীপুরে আত্মগোপনে থেকে চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে কহিনুর বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রাইভেট ডিটেকটিভকে জানান যে, মহাসিন একজন মানসিক বিকার গ্রস্থ, কুরুচি সম্পন্ন ব্যক্তি। আমি একজন সচেতন নাগরিক আমি মনে করি এই তালাকের ঘটনায় আমাকে মানসিক ও সামজিক ভাবে বিষন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি এবং ভুয়া তালাকের বিরুদ্ধে অতিসত্তর আইন ব্যবস্থা গ্রহণ করিব।

মহসীনের গ্রীনকার্ড, আইডি কার্ড
অন্যদিকে মহসিন যেন অন্যকোন নারীর সঙ্গে এ ধরনের কোন ঘটনা বা আচারন করতে না পারে তার উচিৎ শিক্ষা ও আইনের মাধ্যমে দিগতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কহিনুর বেগম। তবে এ বিষয়ে তিনি প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সেই সাথে গাজীপুর পুলিশ প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা ও আইনি সহায়তার আশা করেন। সে সাথে তিনি এই ধরনের অপরাধীকে সনাক্ত করতে স্ব-প্রোনোধিত হয়ে সিআইডি প্রধানকে তদন্তের অনুরোধ জানান।